পদ্মা সেতু রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা কি বলেছেন?

নিজস্ব প্রতিবেদকনিজস্ব প্রতিবেদক
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  10:34 PM, 25 June 2022

স্বপ্নের পদ্মা সেতুর উদ্বোধন করা হলো আজ শনিবার (২৫ জুন)। এদিন সকাল ১০টায় সেতুর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেতুটি হওয়ায় রাজধানী ঢাকার সঙ্গে দেশের দক্ষিণ-দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোর সঙ্গে সড়ক পথে যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও সহজ ও সাশ্রয়ী হলো। অথচ স্বপ্নের এই সেতুটির প্রকল্পের কাজ মোটেও সহজ ছিল না।

২০০৯ সালের পর আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসে যখন পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্প বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেয়, তখন থেকে এ পর্যন্ত দেশের রাজনতিক ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা নানা মন্তব্য করেছেন। রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা কে কি বলেছিলেন তা তুলে ধরা হলো-

১. ২ জানুয়ারি ২০১৮ সালে ছাত্রদলের এক আলোচনা সভায় খালেদা জিয়া বলেন, পদ্মা সেতুর স্বপ্ন দেখাচ্ছে সরকার। কিন্তু পদ্মা সেতু আওয়ামী লীগের আমলে হবে না। এ সেতু জোড়াতালি দিয়ে বানানো হচ্ছে। এ সেতুতে কেউ উঠবেন না। অনেক রিস্ক আছে।

২. ড. আকবর আলি খান ১ জুলাই ২০১২ সালে বলেন, বিশ্বব্যাংকের এমন সিদ্ধান্তের ফলে বাংলাদেশের পক্ষে পরবর্তীতে ঋণ সহায়তা পাওয়া খুব দুষ্কর হয়ে পড়বে। যখনই কোনো দাতা সংস্থা কোনো নতুন প্রকল্পে অর্থায়নে আগ্রহী হবে, তারা দুর্নীতির কারণে বাংলাদেশকে ভিন্ন চোখে দেখবে। সরকার যদি বিকল্প অর্থায়নে পদ্মা সেতুর কাজ শুরু করে, তাহলে খরচ অনেক বেড়ে যাবে। কাজের মান নিয়েও প্রশ্ন থেকে যাবে।

৩. ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, দুর্নীতি যে আমাদের পেছনে টেনে নিয়ে যাচ্ছে এবং দেশের উন্নয়নের ধারাকে নষ্ট করছে, এই ঘটনা তারই আরেকটি উদাহরণ।

৪. পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক আলী আহসান মনসুর বলেন, সুশাসনের অভাবে দেশের সর্ববৃহৎ প্রকল্প আজ অনিশ্চয়তার মুখে।

৫. টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, বিকল্প উৎস হতে পদ্মা সেতুর অর্থায়ন করতে সরকার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা দুর্নীতির অভিযোগ থেকে দৃষ্টি অন্যদিকে সরানো উপায় মনে হতে পারে। যদি এ সিদ্ধান্ত সফলও হয় তাতেও সরকারের গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে না।

৬. বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ১০ জুলাই ২০১২ সালে বলেন, বিশ্বব্যাংক সুনির্দিষ্টভাবে তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে। প্রধানমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী ও সাবেক যোগাযোগমন্ত্রীর বিরুদ্ধে।

৭. বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মরহুম এমকে আনোয়ার বলেন, নিজস্ব অর্থ দিয়ে পদ্মা সেতুর মতো বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করার মতো ক্ষমতা বাংলাদেশের নেই।

৮. বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ২৮ জুলাই ২০১২ সালে বলেন, আবুল হোসেন কোনো দেশ প্রেমিক নন, তিনি একজন নির্লজ্জ ব্যক্তি। তাই তিনি বিশ্বব্যাংকের অভিযোগ আসার ১০ মাস পর পদত্যাগ করলেন। একজন দুর্নীতিবাজের পক্ষে প্রধানমন্ত্রী এতদিন সাফাই গেয়েছেন।

৯. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক মরহুম এমাজউদ্দিন আহমেদ বলেন, আবুল হোসেন যদি দেশ প্রেমিক হয় তাহলে দেশ প্রেমিক নয় কে? তার প্রতি প্রধানমন্ত্রীর সমর্থন এটাই প্রমাণ করে যে, জনগণের অর্থআত্মসাৎকারীদের রাজনৈতিক দলে থাকার অধিকার রয়েছে।

১০. সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলি ইমাম মজুমদার ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৪ সালে বলেন, পদ্মা সেতুর দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তের ক্ষেত্রে দুদক নিজেদের দায়িত্ব পালনে সম্পূর্ণ ব্যর্থ। দুদক যদি নিজেদের দায়িত্ব পালন করতো, তাহলে বিশ্বব্যাংক ঋণচুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্ত নিত না।

১১. বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন বলেন, নিজ অর্থায়নে পদ্মা সেতু করার সরকার যে পরিকল্পনা করছে তা বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। তবে সরকার ইচ্ছা করলে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করতে পারে। কিন্তু শেষ করতে পারবে না।

১২. ড. শাহদীন মালিক বলেছেন, পদ্ম সেতু দেশি অর্থায়নে হবে না। সম্ভব নয়।

১৩. সিপিডি’র ফেলো, ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেছেন, এতো বড় প্রকল্প বাস্তবায়নে অনেক বৈদেশিক মুদ্রার প্রয়োজন। যা যোগান দিতে বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ পড়বে। এ দায় সরকার এড়াতে পারবে না।

১৪. সিপিডি’র আরেক ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এই মুহূর্তে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু শুরু করা হলে দেশের অন্যসব অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য যে কাজগুলো করা যেতো সেগুলো আর হবে না।

১৫. পাকিস্তানের আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশ্লেষক ড. মালিকা ই আবিদা খাত্তক বলেছেন, বাংলাদেশের বহুল প্রত্যাশিত পদ্মা সেতু একটি স্বপ্নের প্রকল্প।

১৬. বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, দেশের স্বাস্থ্য ও শিক্ষাব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে, মানুষ পদ্মা সেতু দিয়ে কী করবে?