পদ্মা সেতুতে অদ্ভুত সব কাণ্ড যেন অহেতুক ভাইরাল হওয়ার নেশা

নিজস্ব প্রতিবেদকনিজস্ব প্রতিবেদক
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  01:23 AM, 28 June 2022

নেচে গেয়ে টিকটক, গান বাজিয়ে উদ্দাম নৃত্য, মূত্র বিসর্জন কিংবা নাট-বল্টু খুলে ফেলা—এমনই সব অদ্ভুত ঘটনার সঙ্গী হচ্ছে পদ্মা সেতু। সবাই যেন অহেতুক ভাইরাল হওয়ার নেশায় মত্ত। ফলে প্রশাসনও কঠোর হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, আগে নিজেকে বদলাতে হবে। আর এদিকে নাট-বল্টু খুলে ফেলা যুবক বায়েজিদকে ৭ দিনের রিমান্ড দিয়েছেন আদালত।

কে কাকে পেছনে ফেলে, কে-ই-বা কার আগে যাবে—এ যেন স্বপ্ন ছোঁয়ার এক বেপরোয়া প্রতিযোগিতা। যে জোয়ার প্রমত্তা পদ্মার চেয়েও ভয়ংকর। শুরুর দিন থেকেই স্বপ্নের পাটাতনে এপার-ওপার পাড়ি দেবার গল্প যতটা, তার চেয়েও বেশি যেন নিয়ম ভাঙার বাড়াবাড়ি। যেখানে দাঁড়াবার নয়, সেখানে ফটোসেশন, নামাজ, মূত্র বিসর্জন কিংবা টিকটকের চটকদার নাচ। শুধু তাই নয়, গল্পগুজব ও ডিজে পার্টিও চলছে।

সোমবার (২৭ জুন) সকাল থেকেই কঠোর অবস্থান নেয় প্রশাসন। এদিন ভোর থেকেই অনির্দিষ্টকালের জন্য পদ্মা সেতুতে মোটরসাইকেল চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া সেতুতে দাঁড়িয়ে ছবি তোলার ক্ষেত্রেও কঠোর অবস্থান নেয় প্রশাসন।

এমন আলোচনা-সমালোচনার মধ্যেই পদ্মা সেতুতে দাঁড়িয়ে ছবি তুলে সোশ্যাল মিডিয়া ফেসবুকে পোস্ট করলেন মডেল-অভিনেত্রী সাফা কবির।সোমবার সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটে দুটি ছবি পোস্ট করেন তিনি। যেখানে দেখা যায়, পদ্মা সেতুতে সাদা পোশাকে দাঁড়িয়ে আছেন এই অভিনেত্রী।

মডেলের ছবির নিচে নেটিজেনরা প্রশ্ন তুলেছেন, নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও কিভাবে সেতুতে দাঁড়িয়ে ছবি তুললেন সাফা। তার বিরুদ্ধে কি মামলা কিংবা কোনো জরিমানার ব্যবস্থা হবে না? তবে এসব মন্তব্যে কোনো জবাব দেননি সাফা। এছাড়া নেটিজেনদের অনেকেই এই অভিনেত্রীর এহেন কর্মকাণ্ড নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করেছেন।

সব মিলিয়ে যেন নিজেকে জাহির করার ও প্রথম হবার এক অসুস্থ মানসিকতা। তা না হলে নাট-বল্টু খুলে স্বপ্নটাকেই ক্ষত-বিক্ষত করত না। যদিও তাদেরই একজন ধরা পড়েছে।

সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার রেজাউল মাসুদ বলেন, বায়েজিদ তালহা। সে ভিডিওটা করে তার আইডি থেকে আপলোড করেছে। এখানে তার দোষ রয়েছে, এ কারণে আমরা মামলাটি রেকর্ড করেছি।

অনেকে স্বপ্ন দেখতে এসে পরিবারকেই ডুবিয়ে গেল দুঃস্বপ্নের পদ্মায়। এ যেন অনেকটা অঘটির ঘটি হলো, জল খেতে খেতে প্রাণটা গেল। যদিও আবেগ থাকবেই তবে সেই উন্মাদনা যদি হয় এমন বেপরোয়া, তাহলে সে গতি রুখবে কে?

বুয়েটের সহকারী অধ্যাপক সাইফুন নেওয়াজ বলেন, এটা কেপিআইভুক্ত এলাকা। সে আচরণটা কী হবে তা সরকার নির্ধারণ করবে। পাশাপাশি যারা নাগরিক রয়েছে তাদেরও মেনে চলা উচিত।

সভ্য আচরণগুলোই মানুষকে ভদ্র করে তোলে, যার জন্য নামমাত্র কোনো টোল দিতে হয় না। প্রয়োজন শুধু চেক ইন আর চেক আউটের বাইরে সু-শিক্ষার। আর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অসামাজিক না হয়ে সত্যিকারের সামাজিক হবার অভিপ্রায়।