ধারণাতীত সংখ্যক ক‌রোনা ভাইরা‌সে আক্রান্ত হ‌য়ে‌ছি‌লো চী‌নের উহানবাসী।

জয়‌বি‌ডিজয়‌বি‌ডি
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  11:11 AM, 15 February 2021

চীনের উহান শহরে ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে নভেল করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব সম্পর্কে যা ধারণা করা হয়েছিল, প্রকৃতপক্ষে সেখানে তার চেয়েও ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়েছিল ভাইরাসটি। উহানে করোনার উৎসের খোঁজে যাওয়া বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তদন্তকারী দলের পর্যবেক্ষণে এমন তথ্য উঠে এসেছে। সংবাদমাধ্যম সিএনএন এ খবর জানিয়েছে।

অনুসন্ধানের জন্য ডব্লিউএইচওর গবেষকেরা উহানের লাখো বাসিন্দাদের রক্তের নমুনা সংগ্রহ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তবে চীনা সরকার এখনো সেই অনুমতি দেয়নি।

ওই তদন্তকারী দলের প্রধান পিটার বেন এমবেরেক জানিয়েছেন, ২০১৯ সালে করোনার প্রাদুর্ভাবের বেশ কয়েকটি বিষয় অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। এর মধ্যে একটি হলো, ২০১৯-এর ডিসেম্বরেই উহানে করোনার এক ডজনেরও বেশি স্ট্রেইন ছড়িয়ে পড়েছিল। এ ছাড়া চীনা সরকারের তথ্য অনুযায়ী, করোনার প্রথম রোগীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে যে, ২০১৯ সালের ৮ ডিসেম্বর তাঁর করোনা শনাক্ত হয়। এবং করোনা শনাক্তের আগের সময়টিতে তিনি কোথাও ভ্রমণ করেননি।

চীন সফর থেকে সংগ্রহ করা আরো তথ্য করোনার উৎসের অনুসন্ধানে থাকা অন্য গবেষকদের আশঙ্কাকে আরো বাড়িয়ে দিচ্ছে। আশঙ্কাটি হলো, চীনে ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে শনাক্ত হওয়ার আরো আগে থেকেই ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়েছিল।

এমবেরেক জানান, ২০১৯ সালের ডিসেম্বরেই করোনাভাইরাস উহানে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল। এটাও আমাদের একটি নতুন অনুসন্ধান।’

এমবেরেক আরো জানান, ‘ডিসেম্বরে করোনায় আক্রান্ত হওয়া ব্যক্তিদের কেউ কেউ হুনানের সামুদ্রিক খাবারের বাজার থেকে আক্রান্ত হয়েছিলেন, কেউ কেউ হননি। ধারণা করা হচ্ছে, ওই বাজারটির প্রথম দিকে করোনা ছড়ানোর ক্ষেত্রে ভূমিকা রয়েছে।

উহানের এ পাইকারি সামুদ্রিক খাবারের বাজারেই ২০১৯ সালের শেষ দিকে প্রথম করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাব শনাক্ত হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়। গত বছরের শুরুতে বাজারটি বন্ধ করে দেওয়ার পর থেকে সেখানে সাধারণের প্রবেশাধিকারে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। নিরাপত্তা প্রহরীরা এখনো সারাক্ষণই বাজারটিকে ঘিরে রাখে।

বন্ধ হওয়ার আগে মাংস, সামুদ্রিক মাছ, অন্যান্য প্রাণী ও শাক-সবজির আলাদা আলাদা সেকশনে বিভক্ত বাজারটির কয়েকশ দোকানে ভিড় লেগেই থাকত।

উহানের এই বাজার করোনাভাইরাসের উৎস নয় বলে মনে করছেন চীনের বেশ কিছু কূটনীতিক। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমেরও একই ধারণা। অন্য কোনো দেশে ভাইরাসটির সম্ভাব্য উদ্ভবের তত্ত্বগুলোতে সমর্থনও দিচ্ছে তাঁরা।

হুনান বাজারের সঙ্গে রহস্যময় নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত চার রোগীর সংযোগ পাওয়ার পর পরই ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বরের রাতের মধ্যেই বাজারটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। এরপর জানুয়ারির শেষ দিক থেকে শুরু করে পরবর্তী ৭৬ দিন কঠোর লকডাউনে থাকে এক কোটি ১০ লাখ বাসিন্দার উহান শহর।

এদিকে, এর আগে চীনের গবেষণাগার থেকে করোনাভাইরাস ছড়িয়েছে বলে যে কথা উঠেছিল, তা দৃশ্যত নাকচ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিশেষজ্ঞ দল।

পিটার বেন এমবেরেককে উদ্ধৃত করে সংবাদমাধ্যম এপি ও বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, উহানের ল্যাব থেকে ভাইরাস ছড়ানোর ‘সম্ভাবনা নেই বললেই চলে’।

ভাইরাসের উৎস খুঁজে বের করতে আরো কাজ করতে হবে, উহানে ডব্লিউএইচও ও চীনের যৌথ তদন্তের সমাপ্তিতে এই মন্তব্য করেছেন এমবেরেক।

আপনার মতামত লিখুন :