দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বেগম খা‌লেদা জিয়া।

জয়‌বি‌ডিজয়‌বি‌ডি
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  04:33 PM, 14 May 2021

দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা ও ঈদ মোবারক জানিয়েছেন। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আপনাদের মাধ্যমে দেশবাসীকে, জনগনকে ঈদের শুভেচ্ছা, ঈদ মোবারক জানিয়েছেন। তিনি আপনাদের মাধ্যমে দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছে। তিনি শুধু নিজের জন্য নয়, সারাদেশের মানুষের জন্য দোয়া চেয়েছেন। দেশনেত্রী যেন সুস্থ হয়ে আবার আমাদের মাঝে ফিরে আসতে পারেন সেজন্য আমরাও আল্লাহর কাছে দোয়া চেয়েছি।

শুক্রবার (১৪ মে) সকাল সাড়ে ১১টায় দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খানকে নিয়ে বিএনপি মহাসচিব শেরে বাংলা নগরে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সমাধিস্থলে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর তিনি এসব কথা বলেন।

সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে তারা ফাতেহা পাঠ করে বিশেষ মোনাজাত করেন।

এবারের ঈদ ‘কষ্টের ও দুঃসময়ের’ বলে মন্তব্য করেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

ঈদের নামাজ শেষে সকালে জিয়াউর রহমানের কবর জিয়ারতের পর সাংবাদিকদের কাছে বিএনপি মহাসচিব এই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।

তিনি বলেন, ‘‘আজকে ঈদুল ফিতর পালিত হচ্ছে- অত্যন্ত একটা কষ্টের মধ্য দিয়ে, দুঃসময়ের মধ্য দিয়ে। একদিকে কোবিড করোনার ভয়াবহ আক্রমণ, অন্যদিকে ফ্যাসিবাদী সরকারের যে অত্যাচার- নির্যাতন-নিপীড়ন।”

‘‘এই দুই দানবের হাত থেকে এই দেশ যেন রক্ষা পায়, জনগন যেন রক্ষা পায় সেই দোয়া আমরা আল্লাহ‘তালার কাছে আমরা করেছি, তিনি(আল্লাহ‘তালা) যেন এই তৌফিক দেন যে আজকে সারা দেশে একটা ফ্যাসিবাদ, কর্তৃত্ববাদ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে তার থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য আমরা সেই শক্তি অর্জন করতে পারি, জনগনকে সঙ্গে নিয়ে আমরা ফ্যাসিবাদকে পরাজিত করতে পারে সেই দোয়া আমরা করেছি।”

তিন বছর ধরে কারাবন্দি দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ছাড়া দলের নেতা-কর্মী ও দেশবাসী ঈদ কেমন পালন করছে জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘‘ ‘ঈদ বলতে আমরা যেটা সবসময় বুঝি সেই ঈদ আমাদের শুধু তিন বছর নয়, সত্যিকথা বলতে কি গত একযুগ ধরেই আমাদের ঈদ নেই। কারণ আমাদের নেতা-কর্মীদের হত্যা করা মিথ্যা মামলা দেয়া-এমন একটা অবস্থায় নিয়ে পৌছিয়েছে যে, এই দেশে কমপক্ষে আমাদের নেতা-কর্মী শুধু ৩৫ লক্ষ লোক আসামী হয়ে আছেন। যারা আসামী হন তাদের পরিবারে কখনো ঈদ আসে না। এটা বাস্তবতা।”

‘‘আর এই সরকারের এতো নির্মম ক্রয়েল তাদের অত্যাচার-নির্যাতন সেটা বর্ণনাতীত। সেই অবস্থার মধ্য দিয়ে আমরা চলছি। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যখন আমাদের সাথে থাকেন তখন উজ্জীবিত হই, তিনি অনুপ্রাণিত করেন। তিনি ছিলেন তিন বছর। এভাবে আমরা অনুপ্রাণিত হয় যে, তিনি তো আছেন, বেঁচে আছেন, তিনি আমাদের সঙ্গে আমাদেরকে অনুপ্রেরণা দান করেন। এই অনুপ্রেরণা নিয়ে আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যাবো-এটাই আমাদের আজকের দিনের শপথ।”

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘‘ঈদ বলতে তো এখন কিছু নেই আসলে। ঈদের যেটা আনন্দ বা ঈদ যে জন্য করা হয়..। আপনি দেখেছেন যে, সরকারের ভুল নীতির কারণে আজকে কিভাবে আপনার মানুষ বিভ্রান্ত হয়ে গেছে। এমনকি বাড়ী যাওয়ার পথে ইতিমধ্যে ৫ জন নিহত হয়েছে পথপৃষ্ট হয়ে।”

‘‘অন্যদিকে দেখুন যে, তাদের (সরকার) ভুল সিদ্ধান্তের কারণে একদিকে তারা বলছে লকডাউন বলছে কিন্তু কোনো লকডাউন পালন হচ্ছে না। গণপরিবহন বন্ধ করেছেন কিন্ত ‍বন্ধ হচ্ছে না। আজকে যদি আপনার এই ঘটনাগুলো না ঘটতো, সঠিকভাবে পরিকল্পনাগুলো করতেন তাহলে এমন হতো না।”

তিনি বলেন, ‘‘আমরা বার বার করে বলছি, প্রণোদনার যে টাকা তা যদি সাধারণ মানুষের কাছে গিয়ে পৌঁছতো তাহলে এই অবস্থা হতো না। সাধারণ মানুষ সরকারের কাছ থেকে কোনো প্রণোদনা বা কোনো সাহায্য পায়নি-এটা বাস্তবতা। এটা আমার কথা নয়, অর্থনীতিবিদরা বলছেন।”

‘‘আমরা সেই কারণে বলি যে, সরকারের অবিলম্বে যে কাজটা করা দরকার- তাদের বাজেটের একটা বিরাট অংশ- মেগা প্রজেক্ট তারা করছে। এর একটা বড় অংশ জনগন তথা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছানো দরকার-এটাই হওয়া উচিত সবার আগে কাজ।”

এ সময়ে দলের সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্সও ছিলেন।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া সবসময় ঈদের দিন দলীয় কর্মসূচি শেষ করে জিয়াউর রহমানের কবর জিয়ারত করতেন। ২০১৮ সালে দুর্ণীতি মামলায় সাজা নিয়ে কারাগারে যাওয়ার পর দলের মহাসচিবসহ স্থায়ী কমিটির সদস্যরা সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে প্রতি ঈদে দলের প্রতিষ্ঠাতার কবর জিয়ারত করে আসছেন।

ঈদের দিন জাতীয় স্থায়ী কমিটির পর জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান ও আবদুল কাদির ভুঁইয়া জুয়েল, সাবেক ছাত্র দল সভাপতি রাজীব আহসানসহ মহানগর বিএনপি ও বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের শতাধিক নেতা-কর্মী শহীদ প্রেসিডেন্ট কবরে পুস্পমাল্য অর্পন করেন।

আপনার মতামত লিখুন :