টিকিয়ে রাখা পাগলা‌টে আওয়ামী লীগার….

জয়‌বি‌ডিজয়‌বি‌ডি
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  06:53 PM, 03 April 2021

আওয়ামী লীগের রাজনীতির টিকে থাকার ভিত্তি শক্তি তৃনমুলের মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী বঙ্গবন্ধুর অসাম্প্রদায়িক ধর্ম ভিত্তির রাজনীতির বিরোধী কোটি কোটি কর্মী সমর্থক, যাদের বলা হয় পাগলাটে আওয়ামী লীগার। কোন পদ, কোন ভোগ, কোন কিছু না পেলেও এরাই আওয়ামীলীগ টিকিয়ে রেখেছে যুগের পর যুগ ধরে। ধর্মনিরপেক্ষ অসাম্প্রদায়িকতার মানে কিন্তু ধর্ম বিদ্বষীনয়, তবে বিএনপি জামাত, শিবির, হেফাজত বিরোধী যা বলে আর কি।

আজকের এই আওয়ামীলীগ সেই পাগলাটে লীগারদের গলা ধাক্কা দিয়ে নয়, বুঝিতে দিতে সক্ষম হয়েছে তোমরা চলে যাও, এই লীগে তোমাদের আর দরকার হবে না। তারা এখন ওহাবী, মওদুদী, দেওবন্দের এতিমদের হোগা চেটে খাবে, কারন তারা তো এই দ্যাশেরই সন্তান, কুরানের এইসব কাউয়াদের পাখী হিসেবে রক্ষা না করলে এরা যাবে কোথায়। অতএব, এরা যেখানে যা খুশি করলেও কেউ বাধা দিবা না, এতিম মানুষ, কতক্ষন করবে তারপরে চলে যাবে, ব্যস….

একটা প্রশ্ন রইলো, এই যে ব্রাহ্মনবাড়িয়ার ধ্বংসযজ্ঞের পোড়া কয়লা এখনো পরিষ্কার হয়নি, এর মধ্যেই ঢাকা শহরে হেফাজত কে সমাবেশ করতে দেওয়ার সুযোগ কি একটি অক্ষম সরকার ব্যবস্থাকে বুঝায় কি না, দয়া করে কেউ কি ব্যাখ্যা দিবেন ?

সরকার প্রধানের ইচ্ছার ইশারা ছাড়া এইখানে অনেক কিছুই হয় না, আবার অনেক কিছুই হয় সরকার প্রধান অবগত থাকেন না। প্রশ্ন হচ্ছে, ঐ যে নেত্রকোনার একটা নাডা রফিকুল নাকি যেন নাম, মতিঝিল থেকে আইন শৃংখলা বাহিনী তাকে আটক করার এক ঘন্টার মধ্যে একটা ফোনের নির্দেশে তাকে মুক্ত করে দেওয়া হয়েছিলো, সেই ফোনটা কে দিয়েছিলো ?

আচ্ছা বাদ্দেন, বিএনপি তাদের মান্য করি আর না করি, কিন্তু এটাতো সত্য বিএনপি নামের একটি রাজনৈতিক দল রয়েছে, সারাদেশে তাদের নেতা কর্মী রয়েছে, সেই বিএনপি যদি গত রবিবার ব্রাহ্মনবাড়িয়ার এতো সম্পদ নষ্ট করে আজকে শুক্রবার ঢাকায় সমাবেশ করতো উইথ আউট এনি অনুমতি, তাহলে আমাদের পুলিশ বা আমাদের সরকার তাদের বিষয়ে কি সিদ্ধান্ত নিতো ?

আচ্ছা বাদ্দেন, বিএনপির মহাসচিবের নামে যদি হরতাল উপলক্ষে বাই মেনশন ময়লার গাড়িতে আগুন দেওয়ার মামলা হতে পারে, আচ্ছা মির্জা ফখ্রুল কি নিজে এসে কোনদিন আগুন দিতো ? দিয়েছে ? হরতালে ময়লার গাড়িতে আগুন দেওয়ার মামলার আসামী করা হতো ফখ্রুল রে। তো মামুনুল কি আওয়ামীলীগের বা সরকারের কারো শশুর লাগে ? তার নামে বাই মেনশন মামলা হয়নি কেন ?

আচ্ছা বাদ্দেন, খালেদা জিয়ার কথা বলি, কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের গাড়ি পোড়ানোর মামলা, গাড়ির যাত্রী ১৫-১৬ নিহত হয়েছিলো, তারপরে স্থানীয় বিএনপি জামাতের নেতা কর্মীদের হামলায় একজন বিজিপি সদস্য মারা গেছিলো, মনে আছে ? সেই মামলায় খালেদা জিয়াকে হুকুমের আসামী করা হয়েছিলো, এবং এক অবস্থায় খালেদা জিয়াকে সেই মামলায় গ্রেপ্তারও দেখানো হয়েছিলো, কথা হলো হেফাজতের বাবু নাগরীকে কে কোন মামলায় আসামী করা হয়নি ? বাবু নাগরী কি আমাদের প্রধানমন্ত্রীর বেয়াই লাগে ?

মুক্তিযুদ্ধের চেতনার রাজনীতি, সিরিয়াসলি ঘেন্না ধরে গেছে, এতো নিচু মানের জগন্য কর্ম কে কিভাবে বলা হয় মুক্তিযুদ্ধের চেতনার রাজনীতি ?

হেফাজত কি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের গনতান্ত্রিক শক্তি ? হেফাজতের জন্য রাজাকারের আশ্রয়দাতা বিএনপি রাজাকার জামাতি ডান বামেরা কান্নাকাটি করছে, বিদেশী মানবাধিকয়ার সংগঠন গুলো চিল্লাচিল্লি করছে। হেফাজত রাস্তায় নামিয়ে দিচ্ছে এতিম বাচ্চাদের, ফলে কিছুই করতে পারছেন না।

বাদ্দেন, টেকনিক্যাল ফিলোসফির রাজনীতি, যেহেতু হেফাজত জঙ্গী সন্ত্রাসী অপশক্তি রেডিক্যাল সংগঠন, নিষিদ্ধ করে দেন, একদিনে পাবলিশ হয়ে গেলো, একদিনেই হেফাজত ছেড়ে যাবেও বিএনপি বামাতি মানবাধিকার অমুক সমুখ সকলে, তারপরে মামুনুল, বাবু নাগ্রী সহ ৫০ জন রে এক রাতে জাহান্নামে পাঠাইয়া দেন।

একটা কথা বলি, সদিচ্ছা জরুরী, রাজনীতি জরুরী নয়। দেশের উন্নয়ন হলো আমেরিকার মত, দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি হলো সৌদি ইরানের মত, কি মনে হয় ? দেশের ইতিহাসে স্বর্নাক্ষরে লেখা থাকবে আওয়ামীলীগ শেখ হাসিনার নাম? বিএনপি জামাত হেফাজত সুযোগ পাইলে শেখ হাসিনারে মেরে ফেলতে প্রস্তুত আছে, আর এইদিকে নিজের দলীয় মিত্রদেরও দূরে সরাইয়া দেওয়া হচ্ছে। মানে দুই নৌকায় পা রেখে এগিয়ে যাওয়ার শেষ পরিনতি বললাম।

তাই অনুরোধ করছি, রাষ্ট, সরকার, আওয়ামীলীগ দয়া করে এক নৌকায় পা দিন, জঙ্গী হেফাজত দমন করুন, অভিশাপ নয় আশির্বাদ পেয়েই ধন্য হবেন গ্যারান্টি। আর না হলে মামুনুল রে প্রধানমন্ত্রী, বাবু নাগ্রীরে রাষ্টপতি বানিয়ে পদত্যাগ করুন। ধর্ষন যেহেতু অবধারিত, সেহেতু সরাসরি তাদের মাধ্যমেই ধর্ষন উপভোগ করি, এটাই মঙ্গল।

আপনার মতামত লিখুন :