চীনের বৃহত্তম রকেটের ধ্বংসাবশেষ আজ ভারত মহাসাগরে পড়েছে, দাবি চীনের।

জয়‌বি‌ডিজয়‌বি‌ডি
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  11:40 AM, 09 May 2021

চীনের বৃহত্তম রকেটের ধ্বংসাবশেষ আজ রোববার ভারত মহাসাগরে পড়েছে বলে দাবি করেছে চীন। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে এ কথা জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

রকেটের ধ্বংসাবশেষ বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের পরই এর অধিকাংশ পুড়ে গেছে বলে চীনা সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে।

চীনের মানববাহী মহাকাশযান প্রকৌশল কার্যালয়ের বরাত দিয়ে চীনের সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়, ‘লং মার্চ ৫বি রকেট’-এর অংশবিশেষ পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের পরপরই ধ্বংস হয়ে যায়।

বেইজিংয়ের সময় রোববার সকাল ১০টা ২৪ মিনিটে দ্রাঘিমাংশের ৭২ দশমিক ৪৭ ডিগ্রি পূর্বে এবং অক্ষ্মাংশের ২ দশমিক ৬৫ ডিগ্রি উত্তর বরাবর এটি পতিত হয়েছে। এ অনুযায়ী ঢাকার সময় রোববার সকাল ৮টা ২৪ মিনিটে রকেটের ধ্বংসাবশেষের পতন হয়েছে।

ভারত ও শ্রীলঙ্কার দক্ষিণপশ্চিমাঞ্চলের কোনো একটি জায়গায় রকেটের ধ্বংসাবশেষ পড়ে থাকতে পারে।

সম্প্রতি চীনা মহাকাশ কেন্দ্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশবাহী একটি ২১ টন ওজনের রকেট মহাকাশে উৎক্ষেপণের পর মহাকাশের কক্ষপথে ঢুকে পড়ায় নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ে। কয়েকদিনের মধ্যে রকেটটি পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে আছড়ে পড়তে পারে বলে জানায় বিজ্ঞানীরা।

যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর অ্যাস্ট্রো ফিজিক্সের বিজ্ঞানী জনাথন ম্যাকডোয়েল এর আগে সিএনএনকে বলেন, ‘আমরা ধারণা করছি, রকেটটি আগামী ৮ থেকে ১০ মে’র মধ্যে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করবে। এ সময়ের মধ্যে চীনা রকেটটি প্রতি দুই দিনে পৃথিবীকে ৩০ বার প্রদক্ষিণ করবে। এ সময়ে ঘণ্টায় এটির গতি থাকবে ১৮ হাজার মাইল (প্রায় ২৯ হাজার কিলোমিটার)। কাজেই যদি এক ঘণ্টার হিসাবে গড়মিল হয়, তাহলে এটি আপনার ধারণার স্থান থেকে ১৮ হাজার মাইল দূরে কোথাও আছড়ে পড়বে।’

পৃথিবীর কক্ষপথে নিজেদের একটি মহাকাশ কেন্দ্র বানাতে যাচ্ছে চীন। প্রকল্পের নাম- ‘তিয়ানহে মহাকাশ স্টেশন’। এটি উৎক্ষেপণের জন্য কিছুদিন ধরেই প্রস্তুতি নিচ্ছে দেশটি। ওই মহাকাশ স্টেশনের একটি ‘মডিউল’ (অংশ) পরীক্ষামূলকভাবে পৃথিবীর কক্ষপথে পাঠাতে গত ২৮ এপ্রিল ‘লং মার্চ ৫বি’ রকেট উৎক্ষেপণ করেছিল চীনা মহাকাশ গবেষণা সংস্থা। সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, উচ্চাভিলাসী মহাকাশ কর্মসূচিতে এটি চীনের সর্বসাম্প্রতিক পদক্ষেপ।

মহাকাশ অভিযানের ক্ষেত্রে চীন তার কার্যক্রম শুরু করেছে বেশ দেরিতে। ২০০৩ সালে চীন প্রথম তার নভোচারীকে কক্ষপথে পাঠায়। চীন তখন ছিল তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রের পর মহাকাশ অভিযানের দৌড়ে তৃতীয় দেশ।

এখন পর্যন্ত চীন মহাকাশের কক্ষপথে এর আগে পাঠিয়েছে দুটি স্পেস স্টেশন। তিয়ানগং-১ এবং তিয়ানগং-২ নামের এ দুটি স্টেশনই ছিল পরীক্ষামূলক মহাকাশ স্টেশন। এগুলো ছিল খুবই সাদামাটা ধরনের মডিউল, যেখানে নভোচারীদের অল্প সময় থাকার ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল।

আপনার মতামত লিখুন :