চট্টগ্রামের হুইপপুত্র শারুন ও মোসারাত জাহানের গোপন হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট ফাঁস!

জয়‌বি‌ডিজয়‌বি‌ডি
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  01:48 PM, 29 April 2021

গুলশানের অভিজাত ফ্ল্যাট থেকে মোসারাত জাহান মুনিয়া নামের এক তরুণীর লাশ উদ্ধারের পর বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সায়েম সোবহান আনভীরের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ আনা হয়েছে। এ ঘটনার নেপথ্যে কী তা নিয়ে যখন দেশজুড়ে তোলপাড় চলছে, সেই মুহূর্তে চট্টগ্রামের হুইপ সামশুল হক চৌধুরীর ছেলে নাজমুল করিম চৌধুরী শারুন ও মুনিয়ার গোপন হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট ফাঁস হয়েছে।

ওই হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটে শারুন মুনিয়াকে অনুরোধ করেছিলেন, ‘তুমি কিছু করলে বসুন্ধরা গ্রুপ শেষ হয়ে যাবে।’ এখন প্রশ্ন উঠেছে, বসুন্ধরা গ্রুপের এমডিকে ফাঁসিয়ে প্রতিশোধ নিতেই কি মুনিয়াকে আত্মহননে প্ররোচিত করেছেন শারুন? ফাঁস হওয়া চ্যাটে বোঝা যায় অনেক আগে থেকেই মুনিয়ার সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তুলেছিলেন হুইপপুত্র। শুধু তা-ই নয়, ওই তরুণীর সঙ্গে বহিষ্কৃত যুবলীগ নেতা ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটেরও অবৈধ সম্পর্ক ছিল, এটিও বেরিয়ে এসেছে ফাঁস হওয়া চ্যাট থেকেই।

সেই চ্যাটে মুনিয়া শারুনকে লিখেছেন, ‘সম্রাট চলে যাওয়ার পর আপনি তো জানেন আমি কত কষ্টে ছিলাম। আর লাস্ট ইয়ারে তো আমি খুবই কষ্টে ছিলাম। আপনি ওই টাইমে আমার পাশে না থাকলে আমি কী করতাম জানি না।’ ইতোমধ্যেই এসব চ্যাট গণমাধ্যমের হাতে এসেছে।

জানা যায়, শারুন-মুনিয়ার নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রামে নিয়মিত বসুন্ধরার এমডি সায়েম সোবহান আনভীর-সংক্রান্ত বিভিন্ন আপডেট শারুনকে জানাতেন মুনিয়া। শারুন কায়দা-কৌশল করে মুনিয়াকে নানাভাবে আনভীরের বিরুদ্ধে উসকে দেওয়ার চেষ্টা করতেন। মুনিয়ার ভাষায় হুইপুত্র যেন সাক্ষাৎ এক ফেরেশতা!

মোসারাত জাহান মুনিয়ার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধারের পর আত্মহত্যায় প্ররোচনা মামলার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। হুইপপুত্র শারুন চৌধুরীর সঙ্গে মুনিয়ার কিছু কথোপকথনের স্ক্রিনশটের সূত্র ধরে মঙ্গলবার বিকেলে একটি সূত্র তার কাছে কিছু তথ্য জানতে চায়।

শারুন বলেন, সূত্রের জানতে চাওয়া বিষয়গুলো তিনি জানিয়েছেন। তবে কে তাকে ফোন করেছিলেন, সে ব্যাপারে হুইপপুত্র কিছু বলতে চাননি। বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার হতে থাকে, মৃত্যুর আগে শারুন চৌধুরীর সঙ্গে মোসারাত জাহান মুনিয়ার কথা হয়েছিল। এ কারণেই শারুনের সঙ্গে কথা বলে ওই সূত্র।

শারুন বলেন, তার কাছ থেকে গতকাল বিকেলে একটি সূত্র মোসারাতের সঙ্গে কথোপকথনের প্রতি ইঙ্গিত দিয়ে জানতে চেয়েছে, তিনি মোসারাতকে চেনেন কি না। শারুন জানান, মোসারাতের সঙ্গে তার পরিচয় ছিল। গত বছর মোসারাত ফেসবুকে তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন।

শারুনের দাবি, মোসারাতের মৃত্যুর পর ফেসবুকে তার সঙ্গে কথোপকথনের যে স্ক্রিনশট ছড়ানো হচ্ছে, সেগুলো মিথ্যা। সত্য-মিথ্যা যাচাইয়ে এই কথোপকথনগুলোর ফরেনসিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করারও দাবি জানিয়েছেন শারুন।

শারুন-মুনিয়ার চ্যাটের অংশবিশেষ

মুনিয়াও শারুনকে আক্ষেপ করে বলতেন, ‘আপনার লাইফে আপনার ওয়াইফের আগে যদি আমি আসতাম।’ এর উত্তরে শারুন বলেছেন, ‘আমি ভালো মানুষ না। জাস্ট উপকার করি।’ কোনো কোনো চ্যাটে মুনিয়া লিখেছেন, ‘আমার আপনার ভেতরে যা হয়েছে ওইটা কেউ জানবে না। আপনি আমার জন্য অনেক করেছেন।’

নিজেদের মধ্যকার এসব চ্যাট নিয়ে অবশ্য উৎকণ্ঠায় ছিলেন শারুন। সেই কথাই জানিয়েছিলেন মুনিয়াকে। উত্তরে মুনিয়া লিখেছিলেন ‘জি না, আমি ডিলিট করে দেই সব।’

গত সোমবার সন্ধ্যার পর গুলশান-২-এর ১২০ নম্বর রোডের ১৯ নম্বর ফ্ল্যাট থেকে মোসারাত জাহান (মুনিয়া) নামের এক তরুণীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তার বাড়ি কুমিল্লার উজির দিঘিরপাড় এলাকায়। এক লাখ টাকা ভাড়ায় মাস দুয়েক আগে ফ্ল্যাটটি ভাড়া নেন মোসারাত।

এ ঘটনায় ওই তরুণীর বোন বাদী হয়ে বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সায়েম সোবহান আনভীরের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় ওই তরুণীকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে আনভীরের বিরুদ্ধে।

আপনার মতামত লিখুন :