খেরসন ও জাপোরিজঝিয়া।শিগগিরই গণভোট আয়োজন করা হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদকনিজস্ব প্রতিবেদক
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  12:06 AM, 09 June 2022
খেরসন ও জাপোরিজঝিয়া

ক্রিমিয়ার মতো ইউক্রেনের আরও দুটি শহর মূল ভূখণ্ডে সংযুক্ত করতে যাচ্ছে রাশিয়া। নতুন শহর দুটি যথাক্রমে দক্ষিণাঞ্চলের বন্দরনগরী খেরসন ও জাপোরিজঝিয়া। খবর রয়টার্স ও মস্কো টাইমস।

২০১৪ সালে ক্রিমিয়া দখল করে রাশিয়া। ক্রিমিয়ার খুব কাছেই খেরসন শহরের অবস্থান। ইউক্রেন যুদ্ধে রুশ সেনাদের হাতে সবার আগে এ বন্দরনগরীর পতন হয়। শহরটিকে এখন যত দ্রুত সম্ভব রুশ ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা করছে মস্কো। সেই লক্ষ্যে শহর দুটিতে শিগগিরই গণভোট আয়োজন করা হবে।

মঙ্গলবার (৭ জুন) রাশিয়ার সিনিয়র আইনপ্রণেতা সের্গেই কিরিয়েঙ্কো বলেন, ক্রিমিয়ার মতোই খেরসনকেও পুরোপুরি রাশিয়ার অন্তর্ভুক্ত করা হবে। কিরিয়েঙ্কোর ভাষায়, খেরসন শহরে শিগগিরই রুশ পাসপোর্ট সরবরাহ শুরু করা হবে। খেরসনের প্রত্যেক বাসিন্দাকেই রাশিয়ার নাগরিকত্ব নেয়ার প্রস্তাব দেয়া হবে।খেরসনের পাশাপাশি জাপোরিজঝিয়া শহরকেও যুক্ত করার পরিকল্পনা চলছে। বুধবার (৮ জুন) জাপোরিজঝিয়ায় রাশিয়ার নিযুক্ত এক কর্মকর্তা বলেছেন, রাশিয়ার সঙ্গে যোগ দেয়ার বিষয়ে গণভোট হবে। তবে এ ভোটের তারিখ এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। ৫০ শতাংশ ভোট পড়লেই তা বৈধ হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে অভিযান শুরু করে রুশ সেনাবাহিনী। এরপর মার্চের শুরুতেই রুশ বাহিনীর হাতে বন্দরনগরী খেরসনের পতন হয়। এরপর থেকেই রাশিয়ার সঙ্গে যোগ দেয়ার ব্যাপারে শহরটিতে গণভোটের কথা বলা হচ্ছে।এদিকে জাপোরিজঝিয়া শহরে শিগগিরই রুশ পাসপোর্ট চালু করা হবে বলে জানিয়েছে রুশ সংবাদমাধ্যম। বুধবার (৮ জুন) রুশ কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে রুশ বার্তা সংস্থা তাস জানায়, রোববার (১২ জুন) থেকে শুরু হবে নতুন পাসপোর্ট প্রদান।

এদিকে পূর্ব-ইউক্রেনের লুহানস্ক প্রদেশের সেভেরোদোনেৎস্কের যুদ্ধে সম্মুখভাগ থেকে ইউক্রেনী সেনারা পিছু হটেছে বলে জানা গেছে। রাশিয়া সেখানে বোমা হামলা করার পর ইউক্রেনেীয় সেনারা পিছিয়ে যেতে বাধ্য হন। বুধবার (৮ জুন) এ তথ্য জানান লুহানস্কের গভর্নর সেরহি হাইদাই। তিনি বলেন, ইউক্রেনীয় সেনাদের হাতে এখন শুধুমাত্র শহরটির উপকণ্ঠের দখল রয়েছে।
বিবিসিকে এক সাক্ষাৎকারে গভর্নর সেরহি হাইদাই বলে, রাশিয়ার সেনারা গোলাবর্ষণ ও বিমান হামলা করে শহরটি মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিতে শুরু করেছে। এরপর শহরের ভেতর ইউক্রেনীয় সেনাদের থাকার কোনো মানে হয় না। আঞ্চলিক নেতারা জানান, ইউক্রেনীয় সেনাদের খুব সম্ভবত নিরাপদ অবস্থানে চলে আসতে হবে যেখানে তাদের অবস্থান শক্তিশালী।