কোরবানির গরুর চামড়ার দাম নির্ধারণ ,চামড়ায় লবণ যুক্ত করতে বাণিজ্যমন্ত্রীর আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদকনিজস্ব প্রতিবেদক
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  02:44 AM, 06 July 2022
কোরবানির পশুর কাঁচা চামড়ার মূল্য নির্ধারণ

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেছেন, চামড়ার স্থানীয় এবং আন্তর্জাতিক বাজার দর, চাহিদা, সরবরাহ, রপ্তানির সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের মতামত বিবেচনায় নিয়ে লবণযুক্ত প্রতি বর্গফুট গরুর চামড়া ঢাকায় ৪৭-৫২ টাকা, ঢাকার বাইরে ৪০-৪৪ টাকা, খাসির চামড়া সর্বত্র ১৮-২০ টাকা এবং বকরির চামড়া সর্বত্র ১২-১৪ টাকা ক্রয় মূল্য নির্ধারণ করা হলো। সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের নির্ধারিত মূল্যে চামড়া ক্রয় নিশ্চিত করতে হবে।

বাণিজ্যমন্ত্রী আজ ঢাকায় বাংলাদেশ সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে মন্ত্রণালয় আয়োজিত আসন্ন পবিত্র ইদুল-আজহা ২০২২ উপলক্ষ্যে কোরবানির পশুর কাঁচা চামড়ার মূল্য নির্ধারণ এবং সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা বিষয়ে ভার্চুয়ালি সভাপতিত্ব করে লবণযুক্ত চামড়ার ক্রয়মূল্য ঘোষণা করেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এ চামড়ার মূল্য গরিবের হক। এতিমখানা, মাদ্রাসা, আনজুমান মফিদুল ইসলামের মতো সংস্থাগুলোই বেশিরভাগ চামড়া সংগ্রহ করে থাকে। গরিবদের ন্যায্য পাওনা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। চামড়া ক্রয় নিশ্চিত করতে ব্যবসায়ীদের জন্য ব্যাংক প্রয়োজনীয় টাকা ঋণ মঞ্জুর করেছে। দেশে প্রয়োজনীয় লবণ মজুত রয়েছে, লবণের সরবরাহ ও মূল্য স্বাভাবিক রয়েছে। হাটে কোরবানির পশুর হাসিলের সময় পশু ক্রেতাদের প্রয়োজনীয় লবণ ক্রয় নিশ্চিত করবে সিটি করপোরেশন। মাঠ পর্যায়ে সবধরনের সহযোগিতা প্রদানের জন্য প্রশাসনকে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, এবার কোরবানির চামড়া সংগ্রহ, সংরক্ষণ এবং নির্ধারিত মুল্যে ক্রয়-বিক্রয়ে কোন ধরনের সমস্যা হবে না এবং নষ্ট হবে না।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, কোরবানির পশুর চামড়া যাতে নষ্ট না হয় সেজন্য কোরবানির পর নিজেদের প্রয়োজনীয় লবণ যুক্ত করে সংরক্ষণ করতে হবে। কোরবানির সাতদিন পর্যন্ত ঢাকা অভিমুখে এবং আন্ত:জেলা কোনো চামড়াবাহী যানবাহন চলাচল করতে পারবে না। লবণযুক্ত করার কারণে কোনো চামড়া নষ্ট হবে না এবং সময় নিয়ে উপযুক্ত মূল্যে চামড়া বিক্রয় করা সম্ভব হবে। এজন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে সচেতন হতে হবে এবং চামড়ায় লবণযুক্ত করা নিশ্চিত করতে হবে। দেশের মসজিদগুলোতে এ বিষয়ে কোরবানিদাতাগণকে সচেতন করতে হবে।

তিনি আরো বলেন, দেশের চামড়া রপ্তানি বেড়েছে, আরোও বাড়বে। সরকার দেশের প্রয়োজনের অতিরিক্ত ওয়েট ব্লু চামড়া কেস টু কেস ভিত্তিতে রপ্তানির অনুমতি প্রদান করছে। চামড়ার গুণগতমান নিশ্চিত করতে যথাযথভাবে চামড়া সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করতে হবে, যাতে কোনো চামড়া নষ্ট না হয়। সরকার এ বিষয়ে জনসাধারণকে সচেতন করার জন্য টিভিসি প্রচার, লিফলেট বিতরণসহ পর্যাপ্ত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

সভায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব তপন কান্তি ঘোষ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. আকতার হোসেন, শিল্পসচিব জাকিয়া সুলতানা, তথ্য ও সম্প্রচার সচিব মো. মকবুল হোসেন, বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শাহীন আহমেদসহ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।