উপসম্পাদকীয় কলাম

জয়‌বি‌ডিজয়‌বি‌ডি
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  02:28 AM, 13 February 2021

এই দেশে কাদের মির্জার মত এক শ্রেনীর আওয়ামীলীগার আছে, যারা বিশ্বাস করতো এখনো করে এক সিজন আওয়ামীলীগ দেশ শাসন করবে, আরেক সিজন বিএনপি জামাত দেশ শাশন করবে, সুইং ম্যুডে থাকবে জাতীয় পার্টি, আর এই কারনেই গত এক যুগ ধরে আওয়ামীলীগের ক্ষমতায় থাকাটাকে কাদের মির্জার মত লীগারেরা বিএনপি জামাতিদের মত তজবি জ্বপে বলে আর কি যে অবাধ সুষ্ঠ নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে আওয়ামীলীগের কয়েকজন ছাড়া বাকীরা পালানোর পথ পাবে না…

উপরের কথা গুলো বলার ভিন্ন কোন মাজেজা নেই, ক্লিয়ার কাট, জিয়ার মুক্তিযুদ্ধে প্রাপ্ত খেতাব বাতিল মোটেও কোন রাজনৈতিক পটভুমিতে নির্ধারিত হওয়ার মত নয়, ইতিহাসের সত্য, সঠিক, নির্ভেজাল বিচার করলে জিয়ার খেতাব বাতিল আরো এক যুগ আগেই করা উচিত ছিলো, যেদিন বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার চুড়ান্ত রায় বের হয়েছিলো। বরং আওয়ামীলীগ কে দোষারোপ করবো তারা এখনো কেন জিয়ার খেতাব বাতিল করতে পারেনি, এটা অবশ্যই জিয়ার প্রতি আওয়ামীলীগের রাজনৈতিক ফ্লেভার ছিলো… অন্যথায় এখনো জিয়াউরের নামের পিছনে বীরউত্তম থাকার কথা ছিলো না।

এমন অবস্থায় জিয়াউর রহমানের পক্ষে বিএনপি জামাতিরা কি ষ্ট্যান্ড নিলো বা না নিলো এইসব মোটেও কোন অংশেই গুরত্ত্ব বহন করে না, করবে না। যেখানে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শিক রাজনীতির চর্চায় জামাতের রাজনীতি নিষিদ্ধ হওয়ার দরকার ছিলো, বিএনপির নিবন্ধন বাতিল হওয়ার কথা ছিলো। এই জন্য যে…

জিয়াউর রহমানের খেতাব বাতিল প্রসঙ্গে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের (জামুকা) সভায় জিয়াউর রহমানের বিরুদ্ধে তোলা অভিযোগগুলো হচ্ছে…

সংবিধান লঙ্ঘন,
সংবিধানের মূলনীতি বাতিল,
স্বাধীনতাবিরোধী লোকজন নিয়ে মন্ত্রিসভা গঠন,
বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনিদের দেশত্যাগে সহায়তা করা।

উপরের প্রতিটি কাজ যেমন জিয়াউর রহমান করেছে, তার ধারাবাহিকতা অব্যাহত রেখেছে জিয়াউর রহমানের গড়া দল বিএনপি।

প্রশ্ন আসতে পারে জিয়াউর রহমান সংবিধান লঙ্ঘন, সংবিধান বাতিল করলো কিভাবে ? ফিরে যেতে হবে জিয়াউর রহমান কিভাবে ক্ষমতায় এসেছিলো সেই ইতিহাসে। বাংলাদেশের প্রথম এবং একমাত্র ব্যাক্তি জিয়াউর রহমান স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭২ সালের প্রধানমন্ত্রী শাসিত সংবিধান বাতিল প্রক্রিয়ার সাথে থেকে যিনি সেনাপ্রধান ও রাষ্টপতি দুই চেয়ারে এককক ভাবে বসে বাংলাদেশ শাসন করেছে ২ বছরের বেশী সময়।

স্বাধীনতাবিরোধীদের বাংলাদেশে পুনর্বাসন ও রাজাকারদের মন্ত্রী সভায় নিয়ে বাংলাদেশ শাসন… ব্যাখ্যা একটু ফ্ল্যাশব্যাকে যেতে হবে, ১৯৭১ সালের ৩ ডিসেম্বরে, রাজাকার শিরোমনী গোলাম আযম পাকিস্থান থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার পরে মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশে ভারত-বাংলাদেশের যৌথবাহিনীর সাথে পাকিস্তানী বাহিনীর যুদ্ধ শুরু হলে, রাজাকার গোলাম আজম বহনকারী পিআইএর বিমান বাংলাদেশে নামতে পারেনি, তখন ঐ বিমান ঘুরিয়ে রাজাকার গোলাম আজম সৌদি আরবে চলে যায়। ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বরে পাকিস্তানী বাহিনী ঢাকাতে আত্মসমর্পণের পর, নতুন রাষ্ট্র হিসাবে বাংলাদেশের জন্ম হয়। দেশ স্বাধীনের পরে বাংলাদেশে রাজাকার সংগঠন জামাত ইসলামের রাজনীতি নিষিদ্ধ হয়। ১৯৭২ সালের ৮ই নভেম্বর বাংলাদেশের নতুন সংবিধান প্রনয়নের পরে, ১৯৭৩ সালের ১৮ই এপ্রিল সরকারী এক আদেশে মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশ বিরোধী কর্মকান্ডে জড়িত থাকার অপরাধে ৩৮ জন দেশ বিরোধী গাদ্দার চিহ্নিত করে তাদের কে বাংলাদেশে নিষিদ্ধ করা হয় সাথে কোন্দিন যাতে বাংলাদেশের নাগরিক হতে না পারে সেটাও ঘোষনা করা হয়। যার মধ্যে একজন ছিলো রাজাকার শিরোমনী গোলাম আযমক। ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগষ্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে হত্যাকান্ডের পরে প্রথমে খন্দকার মোস্তাক, পরে জিয়ার শাসনামলের ১৯৭৮ সালে রাজাকার গোলাম আজম কে জিয়াউর রহমান বাংলাদেশে ফিরতে সাহায্য করে পাকিস্তানি পাসপোর্ট নিয়ে সেই রাজাকার গোলাম আজম কোন ভিসা ছাড়াই ১৯৭৮-১৯৯১ পর্যন্ত বসবাস করে, ১৯৯১ সালে খালেদা জিয়ার শসনামলে উচ্চ আদালতে রাজাকার গোলাম আজমের নাগরিকত্বের বৈধতা ঘোষিত হয়।

জাতির পিতার হত্যাকারীদের যেন বিচার না হয়, সেজন্য প্রথমে ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের দুতাবাসে চাকরি দিয়ে পাঠানো, জিয়ার কাজ ছিল।

কাজেই জিয়ার খেতাব বাতিল করলে কি হবে না হবে সেইসব ভাবনার চেয়েও বেশি জরুরী, জিয়ার খেতাব বাতিলের মাধ্যম বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক চেতনা ধারন লালন পালন ও সংরক্ষন নিশ্চিত করা।

আপনার মতামত লিখুন :