উচ্চ রক্তচাপ নিয়ে ভুল ধারণা: যা জানা জরুরি
- Update Time : ০৯:০৭:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬
- / ৩ Time View
বিশ্বজুড়ে উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। তবে উদ্বেগের বিষয় হলো, আক্রান্তদের প্রায় অর্ধেকই জানেন না যে তাঁরা এ রোগে ভুগছেন। কারণ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই উচ্চ রক্তচাপের কোনো স্পষ্ট উপসর্গ থাকে না। বিশেষজ্ঞদের মতে, সচেতনতার অভাব ও সমাজে প্রচলিত ভুল ধারণাগুলো এ সমস্যাকে আরও জটিল করে তুলছে।
প্রতিবছরের ১৭ মে পালিত হয় বিশ্ব উচ্চ রক্তচাপ দিবস। এ বছরের প্রতিপাদ্য ছিল, ‘একসাথে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ’।
## তরুণদের মধ্যেও বাড়ছে ঝুঁকি
অনেকেই মনে করেন, উচ্চ রক্তচাপ শুধু বয়স্কদের রোগ। তবে চিকিৎসকদের মতে, বর্তমানে তরুণ ও যুবকদের মধ্যেও উচ্চ রক্তচাপ বাড়ছে। অনিয়মিত জীবনযাপন, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, মানসিক চাপ এবং শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা এর প্রধান কারণ।
এ ছাড়া বয়স বাড়লেই রক্তচাপ বাড়া স্বাভাবিক—এ ধারণাও সঠিক নয়। ১৮ বছরের বেশি বয়সী কারও রক্তচাপ স্বাভাবিক মাত্রা ১২০/৮০ মিমি পারদের বেশি হলে তা গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
## ‘নীরব ঘাতক’ উচ্চ রক্তচাপ
উচ্চ রক্তচাপকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, বেশির ভাগ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের উপসর্গ ছাড়াই এটি শরীরের ক্ষতি করতে থাকে। তাই নিয়মিত রক্তচাপ মাপা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
চিকিৎসকদের মতে, অনেক রোগী রক্তচাপ স্বাভাবিক হলে নিজ থেকেই ওষুধ বন্ধ করে দেন, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ বন্ধ বা পরিবর্তন করলে রক্তচাপ আবার অনিয়ন্ত্রিত হয়ে যেতে পারে।
## খাদ্যাভ্যাস নিয়ে ভুল ধারণা
বিশেষজ্ঞরা জানান, উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের ডিম, দুধ বা মাংস পুরোপুরি বাদ দিতে হয় না। প্রতিদিন কুসুমসহ একটি ডিম, এক কাপ সরবিহীন দুধ এবং পরিমিত পরিমাণে মুরগির মাংস খাওয়া যেতে পারে। এমনকি সীমিত পরিমাণে চর্বিহীন গরু বা খাসির মাংসও গ্রহণ করা সম্ভব।
তবে অতিরিক্ত লবণ, প্রক্রিয়াজাত খাবার ও ভাজাপোড়া খাবার এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকেরা।
অনেকে মনে করেন, কাঁচা লবণের পরিবর্তে ভাজা লবণ খেলে ক্ষতি কম হয়। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, লবণ যেভাবেই খাওয়া হোক না কেন, অতিরিক্ত গ্রহণ উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে বাধা সৃষ্টি করে।
## তেঁতুল বা টক খাবার কি রক্তচাপ কমায়?
সমাজে প্রচলিত আরেকটি ধারণা হলো, তেঁতুল বা টক খাবার রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে। তবে চিকিৎসকদের মতে, এ দাবির কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। বরং অতিরিক্ত লবণ মিশিয়ে এসব খাবার খেলে রক্তচাপ আরও বাড়তে পারে।
## সচেতনতাই মূল সমাধান
বিশেষজ্ঞদের মতে, অন্যের পরামর্শে বা নিজের ইচ্ছায় ওষুধ শুরু বা পরিবর্তন করা ঝুঁকিপূর্ণ। উচ্চ রক্তচাপের চিকিৎসা ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হয়ে থাকে। তাই নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা গ্রহণই এই নীরব ঘাতক নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।






















