আল জাজিরার রিপোর্ট বিএনপির ট্রাম্প কার্ড একটি অপরিপক্ক কুরাজনৈতিক খেলা…

জয়‌বি‌ডিজয়‌বি‌ডি
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  12:05 AM, 04 February 2021

কোন কারন ছাড়াই হঠাৎ করে গেল বছরের মধ্য নভেম্বরে বঙ্গবন্ধুর ভাষ্কর্য নিয়ে বিএনপি জামাত রাজাকার সমর্থিত এক দল ধর্ম ব্যবসায়ী সরব হয়ে উঠেছিল। সরব হওয়ার আগে বিএনপি জামাত রাজাকারেরা ভাবতেও পারেনি যে ধর্ম ব্যবসায়ীদের কুদুন পাদন ব্যার্থ হতে যাচ্ছে। সেই না ভাবনার মধ্যেই বিএনপি ও তাদের টং দোকান পার্টি নেতারা অগ্রিম বলা শুরু করলো নতুন বছরে এই সরকারের বিদায় নতুন সরকার আসবে, অর্থাৎ বিএনপি জামাতি রাজাকারেরা আলমারীতে রেখে দেওয়া পুরাতন জামা কাপড় ভালো করে ধুয়ে ইস্ত্রি করে মাঞ্জা মেরে গোপে তেল দেওয়া শুরু করে বুঝিয়েছিল আর মাত্র কয়েকদিন আছে আওয়ামী লীগ সরকার তারপরেই আসবে নতুন সরকার। সেই নতুন সরকার কারা? বিএনপি জামাতি রাজাকারেরা সেটা রেখেছিল সিক্রেট…

ফেব্রুয়ারীর প্রথম সপ্তাহে এসে বিএনপি জামাতি রাজাকারদের সেই সিক্রেট পাবলিকলি এলো আল জাজিরার মাধ্যমে। তালগোল পাকানো সিক্রেট এটা, অনুর্বর গোবর মস্তিষ্ক থেকে প্রোডাক্ট হলে যা হয় আর কি। যেহেতু কাতার ভিত্তিক এই গনমাধ্যম আল জাজিরার বাংলাদেশে কোন বৈধ অনুমোদন নাই, অর্থাৎ বাংলাদেশে আল জাজিরার কোন অফিস নেই, প্রতিনিধি থাকতে পারে তবে সেটাও আল জাজিরার থাইল্যান্ড অফিস নিয়ন্ত্রিত। আরো ভালো ভাবে বললে বাংলাদেশ থাকলো না মরলো এটা দেখার বাংলাদেশের মিডিয়ার দ্বায় যতোটা আল জাজিরা বা অন্যান্য বিদেশী মিডিয়ার তেমন কোন দ্বায় নেই। সেই হিসেব অনুযায়ী দীর্ঘ এক ঘন্টা ব্যাপী বাংলাদেশ নিয়ে বাংলাদেশের স্পর্শকাতর বিষয়াদি নিয়ে যখন আল জাজিরা বা অন্যান্য বিদেশী মিডিয়াতে কোন প্রতিবেদন প্রচার হবে, ধরে নিতে হবে সেটা একটি স্পন্সরশীপ সম্প্রচার। তৈরি থেকে সম্প্রচার পুরোটাই বিনিয়োগের মাধ্যমে সম্পাদিত প্রক্রিয়া। সেখানে দাড়িয়ে ধরেই নেওয়া যায় আল জাজিরায় সম্প্রচারিত বাংলাদেশ বিষয়ের এক ঘন্টা ব্যাপীর এই প্রোগ্রামের নির্মান ব্যয় আলাদা, সম্প্রচার ব্যয় সেটাও আলাদা। অর্থাৎ পুরো প্রতিবেদন ভালো বিনিয়োগের ফসল। প্রশ্ন হচ্ছে সেই ফিগারটা ডলারে কত?

কাতার থেকে সম্প্রচারিত এই প্রতিবেদনের উল্লেখিত ব্যাক্তি বা দৃশ্যায়ন পুরোটা কাতারের ষ্টুডিওতে হয়নি, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, হাঙ্গেরী, মিলিয়ে যেহেতু স্যুট হয়েছে, সেইক্ষেত্রে কাষ্টিং রেট, যাতায়ত, থাকা, মিটিং এরেঞ্জ, এডিটিং, সম্প্রচার সব মিলিয়ে নুন্যতম মিলিয়ন ডলারের প্রজেক্ট ছিল এটা, নিঃসন্দেহে। তো মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের এই প্রজেক্ট যে আল জাজিরায় প্রকাশিত হলো, এর যা পাবলিক ক্ষেপানোর উদ্দেশ্য ছিল, অর্থাৎ প্রতিবেদন প্রকাশের পরে সরকার বিরোধী হয়ে পাবলিকের জনক্ষোভ, রাস্তায় নেমে আসা, শাহবাগ হওয়া, মতিঝিল হওয়া, ইত্যাদির কি রেজাল্ট হলো? সামরিক বাহিনী… তারাও তো প্রতিবাদ জানালো। বাকী রইলো কি?

বিএনপি জামাত রাজাকার ধর্ম ব্যবসায়ী পুডুখোর ইত্যাদি… এরা তো সেই ২০০৯ সাল থেকেই আওয়ামীলীগ সরকারের বিরোধী, বিডিআর পীলখানা, যুদ্ধাপরাধের বিচারের বিরুদ্ধে সক্রিয়তা, মতিঝিলে হাগা মুতার আয়োজন, নির্বাচন বর্জন, পেট্রোল বোমা দিয়ে রেকর্ড ৯২ দিন অরাজকতা নাশকতা পরিচালনা, সভা সেমিনার, টকশো, ফেসবুক বিপ্লব, কোটা আন্দোলন, সড়ক আন্দোলন সহ বাদ রাখছে কি ? রেজাল্ট কি ছিল ? বিএনপি জামাতি রাজাকার পুডুখোর ধর্ম ব্যবসায়ীদের উহহহহ আহহহ… এর পরে?

সিরিয়াসলি আল জাজিরাকে ধন্যবাদ দিতেই হচ্ছে, এই কারনে যে যদিও আমি পুরো প্রতিবেদন দেখিনি, তবে এই প্রতিবেদন সম্পর্কে যতটুকু শুনেছি, তাতেই স্পষ্ট, আল জাজিরার প্রতিবেদনে বিএনপি জামাতি রাজাকার ধর্ম ব্যবসায়ী পুডুখোরদের মন থেকে চাপা ক্ষোভ ফেসবুকে প্রকাশ পাওয়ার জন্য উপযুক্ত ছিল, কিন্তু এই রকম প্রতিবেদনে কোন সুস্থ মানুষের মনে প্রশ্নের উদয় হওয়ার মত কোন উপকরন ছিল না, যা দেখে বুঝা যেতে পারতো দেশটা রসাতলে চলে গেছে।

নিয়ম মাফিক বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট মন্ত্রনালয় ও সেনা বাহিনীর আন্তঃ জনসংযোগ আইএসপিআর প্রতিবাদের মাধ্যমে প্রতিবেদনের বিষয় প্রত্যাখান করেছে যা দরকার ছিল। এর বাহিরে আর কিছুই হচ্ছে না এটা গ্যারান্টি।

কাজেই বিএনপি জামাতিদের বলবো লেগে থাকো, ১২ বছরে পেট্রোল বোমা দিয়া মানুষ হত্যা করে পারোনি এক পিচ ক্ষুদ্র বাল এদিক সেদিক করতে, আসছো বিতর্কিত দুর্নিতীবাজ ব্যাক্তিদের স্ক্রিপ্টে তৈরি বিতর্কিত গনমাধ্যমের প্রতিবেদনে অর্গাজমের সুখ খুজতে… এখন নিশ্চয় বুঝতে পারছো, বাংলাদেশে কেন তোমরা অকেজো বস্তাপচা নর্দমা। তোমাদের কথা তোমাদের শুনেই হাত তালি দিতে হয়, অন্যরা তোমাদের দেয় দৌড়ানী।

আপনার মতামত লিখুন :