আমির হ‌য়ে ব্যক্তিগত অর্থ চাহিদা সহ ম‌ন্ত্রীর পদমর্যাদা দাবী ক‌রে‌ছি‌লেন বাবুনগরী।

জয়‌বি‌ডিজয়‌বি‌ডি
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  01:56 AM, 30 April 2021

জুনায়েদ বাবুনগরী হেফাজতের আমির নির্বাচিত হয়েছিলেন গত বছরের নভেম্বরে। আমির নির্বাচিত হয়েই তিনি সরকারের কাছে এক দাবির ফর্দ তৈরি করে পাঠিয়েছিলেন। এই তালিকায় ব্যক্তিগত চাহিদা যেমন ছিল তেমনি ছিল কওমি মাদ্রাসার জন্য নানারকম সুযােগ সুবিধা বৃদ্ধির আবদার।

তবে একাধিক সূত্র বলছে, জুনায়েদ বাবুনগরী হেফাজতের আমির হিসেবে নিজেকে মন্ত্রীর পদমর্যাদা চেয়েছিলেন এবং একটি বেশ বড় পরিমাণ এককালীন টাকা দাবি করেছিলেন। এছাড়া তিনি কওমি মাদ্রাসার জন্য একটি তহবিল চেয়েছিলেন। আর কওমি মাদ্রাসার শিক্ষকদের বেতন, মর্যাদা ইত্যাদি সংক্রান্ত কিছু দাবি-দাওয়া উত্থাপন করেছিলেন। এই সমস্ত দাবি-দাওয়া নিয়ে তিনি সরকারের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলেছিলেন বলেও জানা যায়। তবে সরকার করােনাকালীন সময়ে এসব দাবি-দাওয়াগুলােকে গুরুত্ব দেয়নি। বরং সরকার জুনায়েদ বাবুনগরীকে আগে পর্যবেক্ষণ করতে চেয়েছেন, তার গতি প্রকৃতি কী রকম হয়। আর এ কারণেই জুনায়েদ বাবুনগরী ক্ষুব্ধ হয়ে প্রথমে আন্দোলনের পরিকল্পনা নিয়েছিলেন। একাধিক গােয়েন্দা সূত্রে এ তথ্য জানিয়েছে।

যখন জুনায়েদ বাবুনগরী আন্দোলনের পরিকল্পনা নেন, তখন তার পাশে এসে দাঁড়ায় বিএনপি এবং জামায়াত। তারা জুনায়েদ বাবুনগরীর এই ক্ষোভকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করার জন্য প্রচেষ্টা গ্রহণ করেন এবং সে কারণেই তারা বাবুনগরীকে নানারকম সুযােগ-সুবিধা ও আশ্বাস দিয়ে পাশে পাওয়ার চেষ্টা করেন।

জানা যায়, ২০১৩ সা‌লের ৫ মে হেফাজ‌তের তান্ড‌বের পর সরকার হেফাজ‌তের সাথে এক ধরনের সমঝােতায় যায়। সেই সমঝােতার অংশ হিসেবে হেফাজতের তৎকালীন আমির আহমদ শফী অনেক সুযােগ-সুবিধা ভােগ করেন। এই সমঝােতার অংশ হিসেবে কওমি মাদ্রাসাকেও সরকার নানারকম প্রণােদনা এবং সুযােগ সুবিধার আওতায় আনে। তারই অংশ হিসেবে কওমি মাদ্রাসাকে স্বীকৃতি দেয়া হয়।

বাবুনগরীপন্থীরা সবসময় মনে করতেন আহমদ শফী সরকারের ঘনিষ্ঠ হয়ে নানা রকম সুযােগ-সুবিধা আদায় করছে সরকারের কাছ থেকে। হেফাজতের সাইনবাের্ড ব্যবহার করেই আহমদ শফী এবং তার পরিবার বিত্তশালী হয়ে উঠছেন- এরকম অভিযােগ জুনায়েদ বাবুনগরী সবসময় করতেন। আর এ কারণেই বাবুনগরী হেফাজতের মধ্যে একটি আলাদা মেরুকরণ তৈরি করেন। যার মাধ্যমে তিনি হেফাজতের আহমদ শফীবিরােধী পক্ষকে একীভূত করেন।

আহমদ শফীর মৃত্যুর পর জামায়াতের সহায়তায় হেফাজতকে কজা করে ফেলেন জুনায়েদ বাবুনগরী। বাবুনগরীর লক্ষ্য ছিল, আহমদ শফী যেভাবে সুযােগ-সুবিধা পেয়েছেন ঠিক তেমনিভাবে তিনিও যদি সরকারকে চাপে ফেলতে পারেন, তাহলে তিনিও অনেক সুযােগ-সুবিধা পাবেন। আর এ জন্যই তিনি একটি তালিকা তৈরি করেছিলেন। যা সরকারকে দিয়ে তিনি বুঝাতে চেয়েছিলেন, আহমদ শফী যেভাবে অনেক কিছু পেয়েছেন, তিনিও পেতে চান।
একাধিক সূত্র বলছে, বাবুনগরীর এই অবাস্তব তালিকা সরকার আমলেই নেয়নি। এরপর থেকেই বাবুনগরী জামায়াত, বিএনপির পরিকল্পনা বাস্তবায়নে নামেন। তারই ফসল হিসেবে প্রথম বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নিয়ে বিরােধিতা এবং তারপর বাংলাদেশে সুবর্ণজয়ন্তীতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী আসার বিরােধিতার নামে জনগণকে ক্ষেপিয়ে তােলেন।

তিনি ভেবেছিলেন, এভাবে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করলেই সরকার তাদের দাবি দাওয়া মেনে নিবে এবং সরকারের কাছ থেকে অনেক বেশি কিছু পাবেন। আর না হলে সরকার পতনের আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। কিন্তু সকল আশা গুড়েবালি হয়ে গেল। কিন্তু হেফাজ‌তে নেতা‌দের একের পর এক সমা‌লো‌চিত কর্মকা‌ন্ডের কার‌নে প্রয়াত আমির আহ‌মেদ শফী পরবর্তী ক‌মি‌টি বা‌তিল ক‌রে রাতারা‌তি আবার তিন সদস্যের আহবায়ক ক‌মি‌টি কর‌তে বাধ্য হয় বর্তমান দদুল্যমান এই তথাক‌থিত অরাজনৈ‌তিক সংগঠন‌টি।

আপনার মতামত লিখুন :