আতঙ্ক পুঁজিবাজারে অনেকেই পুঁজিবাজার ছেড়ে যাচ্ছেন।

নিজস্ব প্রতিবেদকনিজস্ব প্রতিবেদক
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  09:17 PM, 30 July 2022

শেয়ারবাজারের বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক ভর করছে। আর এতে টানা দরপতন ঠোকানো যাচ্ছে না। দিনের দিন এ অবস্থা চলতে থাকায় পুঁজি হারিয়ে পথে বসার উপক্রম হচ্ছে বিনিয়োগকারীদের। এ অবস্থা প্রতিরোধে ‘ফ্লোর প্রাইস’ চালু করে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এতেও থামানো যাচ্ছে না পতনের এ ধারা।

শেয়ারবাজার টানা পতনের মধ্যে মাত্র ১৩ দিনে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের বাজার মূলধন ২৬ হাজার ৬৫৯ কোটি টাকা কমে গেছে। গত ৭ জুলাই ডিএসইর বাজার মূলধন ছিল ৫ লাখ ১৮ হাজার ৭৭২ কোটি টাকা। ২৮ জুলাইয়ের লেনদেন শেষে দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ৯২ হাজার ১১৩ কোটি টাকা।

বাজারের এই খারাপ অবস্থা এখন প্রকট হলেও শুরুটা বেশ আগ থেকে। এতে অনেক বিনিয়োগকারী শেয়ার বিক্রি করে দিচ্ছেন আবার অনেকেই পুঁজিবাজার ছেড়ে যাচ্ছেন।

সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি অব বাংলাদেশের (সিডিবিএল) তথ্য অনুযায়ী, গত এক মাসেই বেনিফিশিয়ারি ওনার্স (বিও) হিসাব কমে গেছে দুই লাখেরও বেশি। এক বছরের ব্যবধানে যা কমেছে প্রায় সাত লাখ।

গত ২৮ জুলাই সক্রিয় বিও হিসাব পাওয়া যায় ১৮ লাখ ৪০ হাজার ৮০১টি। এর এক মাস আগে গত ৩০ জুন বিও হিসাব পাওয়া যায় ২০ লাখ ৫৮ হাজার ৭১টি। এতে দেখা যায় এক মাসে ২ লাখ ১৭ হাজার ২৭০টি বিও হিসাব বন্ধ হয়েছে। ২০২১ সালের ২৯ জুন বিও হিসাব ছিল ২৫ লাখ ৩৬ হাজার ৪৩১টি। এ হিসাবে এক বছরে বিও হিসাব কমেছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার ৬৩০টি।

বিনিয়োগকারীরা জানান, গত ঈদের আগে থেকেই শেয়ারবাজার পতনের মধ্যে রয়েছে। একই সময় জ্বালানি তেল ও গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে জ্বালানি সাশ্রয়ে ১৮ জুলাই সরকার লোডশেডিং এর ঘোষণা দিলে পতনের মাত্রা আরও বেড়ে যায়।

অবস্থা উত্তরণে ২৫ জুলাই ৩০ জন বড় বিনিয়োগকারীর সঙ্গে বৈঠক করে পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি। ওই বৈঠকের পর বিএসইসির পক্ষ থেকে বলা হয়, পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ বাড়ানোর আশ্বাস দিয়েছেন বড় বিনিয়োগকারীরা। এসব বড় বিনিয়োগকারীরা মার্কেট তৈরিতে ভূমিকা রাখবে।

কিন্তু কাজের কাজ কিছুই দেখা যাচ্ছে না শেয়ারবাজারে বর্তমান অসময়ে।

এদিকে, ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতির (এফবিসিসিআই) সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন শেয়ার ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন। তিনি বলেছেন, অনেক শেয়ার ব্যবসায়ী নাকি এখন ডলার ব্যবসায় জড়িত হয়েছেন। সরকারের উচিত হবে, এসব ব্যবসায়ীদের শক্ত হাতে দমন করা। ডলার কারসাজিতে যারাই জড়িত থাকুক না কেন, তাদের শক্ত হাতে ধরা দরকার।

বৃহস্পতিবার (২৮ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদারের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত শেষে এসব মন্তব্য করেন তিনি।